দুনিয়ার জীবনটা একজন মুমিনের জন্য কয়েদখানা। একটার পর একটা মুসীবত তার জীবনে আসতেই থাকবে। কারণ সে একটা পরীক্ষার হলে আছে। পরীক্ষার হলের পরিবেশ কখনো আনন্দের হয় না। একজন সিরিয়াস মানুষ কখনো পরীক্ষার হলে চিন্তামুক্ত থাকতে পারে না।
আমরা দুনিয়ার জীবনে দেখি কখনো কষ্টের সম্মুখীন হই। আবার কিছুদিন পর মনে হয়, যাক এখন একটু সচ্ছলতা এসেছে। এখন মনে আমি আমার চাওয়া পাওয়া পূরণ করতে পারছি। মনে হয়, এইতো দুঃখের দিন শেষ হলো! হ্যাঁ দুঃখের দিন শেষ হয়েছে, এই পর্যন্ত কথাটা ঠিক। কিন্তু আমরা ভুলে যাই, পরীক্ষা কিন্তু শেষ হয়নি। মূলত প্রশ্নপত্র পরিবর্তন হয়েছে। নাহলে দেখেন, যে জিনিসগুলোকে আমরা সুখের উপকরণ বলে মনে করি, সেগুলোকেই আল্লাহ ফেতনা বা পরীক্ষা বলেছেন:
وَاعْلَمُوا أَنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ وَأَنَّ اللَّهَ عِندَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ
“আর জেনে রেখো যে, নিঃসন্দেহে তোমাদের ধনদৌলত ও তোমাদের সন্তানসন্ততি তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা, আর নিঃসন্দেহে আল্লাহ্—তাঁরই কাছে রয়েছে বিরাট পুরস্কার।” (সুরা আনফাল-২৮)
যখন আমরা কষ্টের মধ্য দিয়ে যাই, তখন সেটা আমাদের একটা পরীক্ষা। আমরা কি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকছি? আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করছি? সবর করছি? নাকি হতাশ হয়ে পড়ছি?
সবরের প্রকারভেদ: বিপদ ছাড়াও যেখানে সবর প্রয়োজন
আর আমরা যে বিপদে সবর করার কথা বলি, এটা সবরের সবচেয়ে নিচের স্তর। সবর তিন প্রকার:
১। গুনাহ থেকে বিরত থাকা: সবরের শক্তি দিয়ে গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা। শয়তান অনেক ফাঁদ পেতে রেখেছে আমাদেরকে গুনাহের কাজের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য। জাহান্নামের পথটা প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণের উপকরণ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এই প্রলুব্ধকারী ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য ঈমানের দৃঢ়তা ও সবর থাকা জরুরী। যেহেতু আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করার জন্য জ্বিন শয়তান ও মানব শয়তান একসাথে কাজ করছে।
২। ইবাদাতে দৃঢ় থাকা: সবরের সাথে আল্লাহর নির্দেশ পালন করা। সেটা যত কঠিনই হোক। পরিবেশ যত প্রতিকূলই হোক, আল্লাহর একেকটা হুকুম বাস্তবায়ন করাকে নিজের জীবনের চেয়ে দামি মনে করা। আল্লাহ যত বড় তার হুকুমও ততবড়। আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করা হলে আমাদের জীবনের কানাকড়ি মূল্যও নেই। আল্লাহর আদেশ লংঘন হবে, আর আমরা বেঁচে থাকব!
৩। বিপদাপদে সবর করা, স্থির থাকা: সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। আল্লাহর কাছে নিজেকে সপে দেওয়া। তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়া। তিনিই পারেন বিপদ থেকে উদ্ধার করতে। এটা করতে পারলে বান্দা দ্বীনের পথে বহুদূর এগিয়ে যেতে পারবে। বিপদটা তার জন্য নেয়ামতে পরিণত হয়। এমন বান্দার প্রতি আল্লাহর অশেষ রহমত নাযিল হয়।
إِنَّمَا يُوَفَّى ٱلصَّٰبِرُونَ أَجۡرَهُم بِغَيۡرِ حِسَابٖ
“ধৈর্যশীলদেরকে তো অপরিমিত পুরস্কার দেওয়া হবে।” (সূরা যুমার ১০)
মর্যাদার মাপকাঠি ও শ্রেষ্ঠ মানুষদের সবর
মানুষদের মধ্যে মর্যাদায় অনেক তারতম্য আছে। আর আল্লাহর কাছে এই মর্যাদা নির্ধারিত হয়, তাকওয়ার ভিত্তিতে। ঈমান ও তাকওয়াই হলো সম্মান ও মর্যাদার মাপকাঠি। এর সাথে আরো অনেক শাখাপ্রশাখা যুক্ত হতে পারে। কিন্তু মূল বিষয় এই দুটিই। সুতরাং মানুষদের মধ্যে মুমিনরাই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ। একজন কাফের; সে যতই চরিত্রবান, ভদ্র স্বভাবের হোক না কেন, সে কখনো মর্যাদায় সবচেয়ে তুচ্ছ পর্যায়ের মুমিনের সমান হতে পারে না।
সমস্ত মুমিনদের মধ্যে সাহাবায়ে কেরামগণ সবচেয়ে সম্মানিত ও মর্যাদাবান। যিনি একবার ঈমান অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন এবং এর উপরই জীবন অতিবাহিত করেছেন, তিনি এমন এক মর্যাদা অর্জন করে ফেলেছেন, কেয়ামত পর্যন্ত আগত কোন মানুষ, সে পর্যায়ে পৌছতে পারবে না। আবার সাহাবীদের মধ্যেও মর্যাদার অনেক স্তর আছে। যারা হুদায়বিয়ার সন্ধি ও মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইসলামগ্রহণ করেছেন, তারা পরবর্তীদের চেয়ে অধিক মর্যাদাবান। অগ্রবর্তীদের মধ্যেও মর্যাদাগত পার্থক্য আছে। আশারায়ে মুবাশশারা বা জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাদের মধ্যে খোলাফায়ে রাশেদীনগণ শ্রেষ্ঠ। সমস্ত উম্মতের মধ্যে আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু শ্রেষ্ঠ।
আবার সমস্ত মানুষের মধ্যে নবীগণ উত্তম। এই নবীগণের মধ্যে পাঁচজন হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ, যাদেরকে ‘উলুল আজম মিনার রুসুল’ বলা হয়। তাঁরা হলেন: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম, মুসা আলাইহিস সালাম, নূহ আলাইহিস সালাম ও ঈসা আলাইহিস সালাম।
এই আয়াতে শ্রেষ্ঠ নবীদের মতো করে সবর করতে বলা হয়েছে। বিষয়টা কি কঠিন? হ্যাঁ কঠিন। কিন্তু অসম্ভব নয়। কারণ অসম্ভব হলে আল্লাহ এই আদেশ দিতেন না। আল্লাহ বান্দাদেরকে সাধ্যের অতিরিক্ত কোন কিছু করার আদেশ করেন না:
فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُو الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ وَلَا تَسْتَعْجِل لَّهُمْ ۚ كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَ مَا يُوعَدُونَ لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا سَاعَةً مِّن نَّهَارٍ
“অতএব, আপনি সবর করুন, যেমন উচ্চ সাহসী পয়গম্বরগণ সবর করেছেন এবং ওদের বিষয়ে তড়িঘড়ি করবেন না। ওদেরকে যে বিষয়ে ওয়াদা দেয়া হত, তা যেদিন তারা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন তাদের মনে হবে যেন তারা দিনের এক মুহুর্তের বেশী পৃথিবীতে অবস্থান করেনি।” (সুরা আহকাফ-৩৫)
আপনি সবর করুন। অপরাধীরা যতই অন্যায় করুক, যতই আনন্দ ফূর্তি করুক, মুমিনদেরকে উপহাস করুক। সেদিন তারা বুঝতে পারবে, পৃথিবীতে তারা যা করেছে, তা খুবই সামান্য ছিল। মনে হবে দিনের একটা মুহূর্ত মাত্র তারা সেখানে অবস্থান করেছে।
সবরের মিষ্ট ফল ও আল্লাহর রহমত
সবরের ফল বড় মিষ্ট। সবরকারীদের প্রতিদান আল্লাহ অনেক বড় রেখেছেন। আল্লাহ বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
“হে মুমিন গন! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন।” (সুরা বাকারা-১৫৩)
وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ ﴿١٥٥﴾ الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ ﴿١٥٦﴾ أُولَٰئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ
“এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের। যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো। তারা সে সমস্ত লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই হেদায়েত প্রাপ্ত।” (সুরা বাকারা: ১৫৫-১৫৭)
চিন্তা করে দেখুন, যদি সবর করতে পারেন, তাহলে আল্লাহ এই আয়াত গুলোতে যাদের কথা বলেছেন, আপনি যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলেন। এটা কত বড় সৌভাগ্য যে, সবর করার মাধ্যমে আপনি কেমন যেন আল্লাহর কুরআনে নিজের নাম লিখিয়ে ফেললেন।
মনে রাখবেন, প্রথম জীবনে যারা সবর করেছে, তারা পরবর্তীতে এমন সম্মানজনক জীবন পেয়েছে, যার জন্য ঈর্ষা করতে হয়। আল্লাহর জন্য সবর করুন। আল্লাহ এর প্রতিদান দিবেন। একটা হাদিস দেখুন। এই হাদিসটাকে নিজের পথনির্দেশিকা বানান। ইনশাআল্লাহ অন্তরে প্রশান্তি পাবেন:
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ যখন কোনো ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, তখন জিবরিলকে ডেকে বলেন, আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসি, সুতরাং তুমিও তাকে ভালোবাস। অতঃপর জিবরিল আলাইহিস সালাম তাকে ভালোবাসতে থাকেন। তারপর আকাশবাসীকে (ফেরেশতাদের) বলে দেন যে, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। অতএব তোমরা তাকে ভালোবাস। তখন আকাশের সকল ফেরেশতা তাকে ভালোবাসতে থাকেন। অতঃপর সে ব্যক্তির জন্য জমিনেও জনপ্রিয়তা দান করা হয়। আর আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ঘৃণা করেন… তার জন্য জমিনেও মানুষের মনে ঘৃণা সৃষ্টি হয়।” (মুসলিম, মিশকাত)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস থেকে আমরা এই শিক্ষাই পাই। আবু সায়ীদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
عَجَباًلأمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ آُلَّهُ لَهُ خَيْرٌ ، وَلَيْسَ ذَلِكَ لأِحَدٍ إِلاَّ للْمُؤْمِن : إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْراً لَهُ ، وَإِنْأَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خيْراً لَهُ
“মুমিনের ব্যাপারটাই আশ্চর্যজনক। তার প্রতিটি কাজে তার জন্য মঙ্গল রয়েছে, আর এটা মুমিন ব্যতীত অন্য কারো জন্য নয়। সুতরাং তার সুখ এলে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, ফলে এটা তার জন্য মঙ্গলময় হয়। আর দুঃখ পৌঁছলে সে ধৈর্য ধারণ করে, ফলে এটাও তার জন্য মঙ্গলময় হয়।” (মুসলিম)
সবর একটি নেয়ামত: যুদ্ধে ও জীবন সংগ্রামে
আল্লাহ আমাদেরকে পরীক্ষাস্বরূপ বিপদগ্রস্ত করেন। আমাদেরকে বিপদ মুসীবতের সময়টা কাটাতেই হবে। এবং সময়ের সাথে সাথে তা কেটেও যাবে। কিন্তু রয়ে যাবে আমাদের সবরের ফলাফল। থেকে যাবে অশেষ সাওয়াব ও প্রতিদান। আল্লাহ কতবড় দয়াময়!
সবর করতে কষ্ট হবে। তাই নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করতে হবে। তাহলে আল্লাহ সাহায্য করবেন। সবর একটি নেয়ামত। এই নেয়ামতের অধিকারী হওয়ার যোগ্যতা তো থাকতে হবে। সুহাইব ইবনু সিনান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
وَمَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُاللَّهُ . وَمَا أُعْطِىَ أَحَدٌ عَطَاءً خَيْراً وَأَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ
“যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করার চেষ্টা করবে আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা প্রদান করবেন। আর কোন ব্যক্তিকে এমন কোন দান দেওয়া হয়নি, যা ধৈর্য অপেক্ষা উত্তম ও বিস্তর হতে পারে।” (বুখারী ও মুসলিম)
সবর হলো মুমিনের হাতিয়ার। এটা দিয়ে সে যুদ্ধও জয় করতে পারে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যুদ্ধের ময়দানে সবর করার নির্দেশ দিয়েছেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“হে ঈমানদানগণ! ধৈর্য্য ধারণ কর এবং মোকাবেলায় দৃঢ়তা অবলম্বন কর। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক যাতে তোমরা তোমাদের উদ্দেশ্য লাভে সমর্থ হতে পার।” (সুরা আলে ইমরান-২০০)
সুফল কি হবে, তাও বলে দিয়েছেন:
بَلَىٰ ۚ إِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَأْتُوكُم مِّن فَوْرِهِمْ هَٰذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُم بِخَمْسَةِ آلَافٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُسَوِّمِينَ
“অবশ্য তোমরা যদি সবর কর এবং বিরত থাক আর তারা যদি তখনই তোমাদের উপর চড়াও হয়, তাহলে তোমাদের পালনকর্তা চিহ্নিত ঘোড়ার উপর পাঁচ হাজার ফেরেশতা তোমাদের সাহায্যে পাঠাবেন।” (সুরা আলে ইমরান-১২৫)
মুসলিমরা কীভাবে অল্পসংখ্যক হয়েও অধিক সংখ্যক কাফেরের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়, তার রহস্যও সবর:
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ ۚ إِن يَكُن مِّنكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ ۚ وَإِن يَكُن مِّنكُم مِّائَةٌ يَغْلِبُوا أَلْفًا مِّنَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَفْقَهُونَ ﴿٦٥﴾ الْآنَ خَفَّفَ اللَّهُ عَنكُمْ وَعَلِمَ أَنَّ فِيكُمْ ضَعْفًا ۚ فَإِن يَكُن مِّنكُم مِّائَةٌ صَابِرَةٌ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ ۚ وَإِن يَكُن مِّنكُمْ أَلْفٌ يَغْلِبُوا أَلْفَيْنِ بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ
“হে নবী, আপনি মুমিনদেরকে উৎসাহিত করুন জিহাদের জন্য। তোমাদের মধ্যে যদি বিশ জন দৃঢ়পদ ব্যক্তি থাকে, তবে জয়ী হবে দু’শর মোকাবেলায়। আর যদি তোমাদের মধ্যে থাকে একশ লোক, তবে জয়ী হবে হাজার কাফেরের উপর… আর আল্লাহ রয়েছেন দৃঢ়চিত্ত লোকদের সাথে।” (সুরা আনফাল ৬৫-৬৬)
উপসংহার: রবের কাছেই প্রশান্তি
আল্লাহকে সন্তুষ্ট করুন। আল্লাহর কাছে সাহায্য চান। গভীর রাতে উঠে জায়নামাযে বসে কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে দোআ করুন। বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করুন। কুরআনকে বন্ধু বানান, সম্ভব হলে কুরআন হিফজ শুরু করুন। সুরা ইউসুফ তিলাওয়াত করুন অর্থ বুঝে বুঝে। এর মর্ম হৃদয় দিয়ে উপলব্ধির চেষ্টা করুন। স্মরণ করুন ঐ মানুষগুলোর কথা, যারা আপনার চেয়েও অধিক কষ্ট ভোগ করেছে জীবনে।
দুনিয়ার জীবন কয়দিনের, সমস্ত কষ্টের শেষ আছে। কষ্ট করে এই সফরটা শেষ করতে পারলে অফুরন্ত শান্তি। নিশ্চয় কষ্টের পরই আছে স্বস্তি।
